পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের সহায়তাকারী আধা-সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা, উচ্ছেদ ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাজধানী ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যাসহ একাধিক গণহত্যা সংঘটিত হয়। প্রায় এক কোটি বাঙালি শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয় এবং আরও তিন কোটি মানুষ দেশের অভ্যন্তরে উদ্বাস্তু হয়।[৩৩] বাঙালি ও উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতাকে বুদ্ধিজীবীরা গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।

মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ

I believe in listening to and partnering with our clients in order to achieve the greatest results.

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ - কাদেরিয়া বাহিনী মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি জাদুঘর

কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম (জন্ম: ১৪ জুন ১৯৪৭) একজন বাংলাদেশী মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদ। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি বাঘা সিদ্দিকী নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সমরনায়ক, যিনি ভারতীয় বাহিনীর সাহায্য ব্যতিরেকেই ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের প্রথমার্ধে ঢাকা আক্রমণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিলেন। তার পূর্ণ নাম আব্দুল কাদের সিদ্দিকী। তাকে বঙ্গবীর নামেও ডাকা হয়। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বাহিনী কাদেরিয়া বাহিনী তার নেতৃত্বে গঠিত ও পরিচালিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করা হয়। তার নামে সখিপুরে "কাদেরনগর" গ্রামের নামকরণ করা হয়েছে।
জন্ম১৪ জুন ১৯৪৭
জাতীয়তাবাংলাদেশী
অন্যান্য নামবাঘা সিদ্দিকী, বঙ্গবীর
নাগরিকত্ববাংলাদেশ
পেশারাজনীতিবিদ
পরিচিতির কারণমুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ
দাম্পত্য সঙ্গীনাসরিন সিদ্দিকী
আত্মীয়আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (ভাই)[১]
পুরস্কার বীর উত্তম

কাদের সিদ্দিকী’র লেখা উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ:

  1. মওলানা ভাসানীকে যেমন দেখেছি
  2. মেঘে ঢাকা তারা
  3. স্বাধীনতা’৭১
  4. বজ্রকথন
  5. তারা আমার বড় ভাই-বোন
  6. না বলা কথা
  7. পিতা-পুত্র

যুদ্ধের পর কাদেরিয়া বাহিনীর অস্ত্র জমাদান

আবদুল কাদের সিদ্দিকী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে টাঙ্গাইলে গঠিত বিশেষ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন। এ বাহিনীর নেতৃত্বে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ছাড়াও ছিলেন আনোয়ার উল আলম শহীদ, এনায়েত করিমসহ অনেকে। প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলে তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধযুদ্ধ করেন। টাঙ্গাইলের প্রতিরোধযোদ্ধারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পুরো বাহিনী টাঙ্গাইলের প্রত্যন্ত এলাকা সখীপুরে চলে যান। সেখানে শুরু হয় এ বাহিনীর পুনর্গঠন-প্রক্রিয়া এবং রিক্রুট ও প্রশিক্ষণ। পরবর্তীকালে এ বাহিনীরই নাম হয় ‘কাদেরিয়া বাহিনী’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন (সেক্টর) ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সামরিক কৌশল হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সমগ্র ভৌগোলিক এলাকাকে ১১টি সেক্টর বা রণাঙ্গনে ভাগ করা হয়। প্রতি সেক্টরে একজন সেক্টর কমান্ডার (অধিনায়ক) নিয়োগ করা হয়। যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য প্রতিটি সেক্টরকে কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত করা হয় এবং প্রতিটি সাব-সেক্টরে একজন করে কমান্ডার নিয়োজিত হন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ - উইকিপিডিয়া

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত নিদর্শন ও স্মারকচিহ্নসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের স্থান। এটি ১৯৯৬ সালের ২২ মার্চ ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচার একটি পুরানো দ্বিতল বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর প্রবেশ পথেই রয়েছে ‘শিখা চিরন্তন’, প্রস্তরে উৎকীর্ণ করা আছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অঙ্গীকার: সাক্ষী বাংলার রক্তভেজা মাটি/ সাক্ষী আকাশের চন্দ্রতারা/ ভুলি নাই, শহীদদের কোন স্মৃতি/ ভুলবনা কিছুই আমরা।’ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, সেগুনবাগিচা ঢাকা কতিপয় সমাজনেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতিকে রক্ষার উদ্দেশ্যে নিজেরাই স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে জাদুঘর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠাতাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে এটি জনগণ দ্বারা স্থাপিত জাদুঘর। সম্পূর্ণ বেসরকারি উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের তথ্য, প্রমাণাদি, বস্ত্তগত নিদর্শন, দলিলপত্র ইত্যাদি সংগ্রহ করে এখানে রাখা হয়। নিরপেক্ষ ও বস্ত্তনিষ্ঠভাবে ঐতিহাসিক ঘটনাধারা মেলে ধরার এই প্রয়াসে দেশব্যাপী সাড়া জাগে এবং অনেক ব্যক্তি স্মারক প্রদান ও আর্থিক সহায়তাদানে এগিয়ে আসেন। এর একটি ট্রাস্টি বোর্ড রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যবৃন্দের মধ্যে রয়েছেন আলী যাকের, ডা. সারওয়ার আলী, আসাদুজ্জামান নূর, রবিউল হুসাইন, সারা যাকের, জিয়াউদ্দিন তারেক আলী, মফিদুল হক ও আক্কু চৌধুরী। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ছয়টি গ্যালারি রয়েছে। প্রথম গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে বাঙালির ঐতিহ্যের পরিচয় এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের চিত্র। দ্বিতীয় গ্যালারিতে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ-পরবর্তী পাকিস্তানি শাসন-শোষণের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। তৃতীয় গ্যালিরিতে প্রদর্শিত হয়েছে একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন, ২৫ মার্চ সংঘটিত গণহত্যা, স্বাধীনতার ঘোষণা, প্রাথমিক প্রতিরোধ ও শরণার্থীদের জীবনচিত্র। দোতলার তিনটি গ্যালারিতে রয়েছে প্রতিরোধ ও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দিক, পাকিস্তান সেনা ও তাদের দোসরদের বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং বাঙালির বিজয় দৃশ্য। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস সম্পর্কে দেশের মানুষকে সচেতন করতে জাদুঘর নানা ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। জাদুঘরের ব্যবস্থাপনায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবহণ ও পরিদর্শন সুবিধাসম্বলিত কর্মসূচি বা আউটরিচ প্রোগ্রাম পরিচালিত হয়। এছাড়া একটি গাড়িকে ভ্রাম্যমাণ জাদুঘরে রূপান্তর করা হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে থাকে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একটি ছোট প্রদর্শনমালা ও উন্মুক্ত মঞ্চ রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাদুঘর সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত সপ্তাহে ৬ দিন খোলা থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি।
Scroll to Top

Schedule Appointment

Fill out the form below, and we will be in touch shortly.
Contact Information
Business Information
Preferred Date and Time Selection